শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
এদিন কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে এমপি গাজী নজরুল এবং তাঁর স্ত্রীকে এজলাসে হাজির করা হয়। এ সময় শেরেবাংলা নগর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন, অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান। শুনানি চলাকালে এজলাসে বসে গাজী নজরুল আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন, মামলার নথি পর্যালোচনা করেন এবং ওকালতনামায় স্বাক্ষর প্রদান করেন।
রিমান্ডের আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মৃত্যুর সময় একই ফ্ল্যাটে অবস্থান করায় ভিকটিমের আত্মহত্যার পেছনে তাঁদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ছিল কি না এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানসিক নির্যাতন বা প্ররোচনার কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অন্য কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা শনাক্তকরণ এবং এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের অবস্থান নিশ্চিত করে তাঁকে গ্রেপ্তারের স্বার্থেই এই রিমান্ড প্রয়োজন।
মামলার এজাহারে নিহতের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুন মাসে পারিবারিকভাবে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং তিনি ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গেই থাকতেন। তবে বিয়ের পর থেকেই প্রথম স্ত্রী ও এমপির ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন মরিয়ম। এর ধারাবাহিকতায় গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে এমপির দেওয়া ফোনের ভিত্তিতে স্বজনরা ন্যাম ভবনে পৌঁছান এবং পুলিশের সহায়তায় ভেতরের ঘরের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ এবং বিছানায় তাঁর হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। আসামিদের অমানবিক নির্যাতন ও প্ররোচনার কারণেই মরিয়ম আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়।