০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

alokitopatrika
  • আপডেট সময় : ০৮:২১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / ৫৮৬ Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী ও নির্দেশদাতা হিসেবে দায়বদ্ধতার অভিযোগে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে গভীর তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আজ রোববার (২৬ জুলাই) ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’র পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এই লিখিত অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান সাংবাদিকদের জানান যে, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও আবদুল হামিদের শাসনকালের ভূমিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার জন্য এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দায়ের করা অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চরম সংকটময় সময়ে রাষ্ট্রের সশস্ত্র তিন বাহিনীর সাংবিধানিক সর্বাধিনায়ক পদে আসীন থাকা সত্ত্বেও মো. সাহাবুদ্দিন সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা গুম, নির্বিচারে হত্যা এবং বহুল আলোচিত গোপন বন্দিশালা বা কথিত ‘আয়নাঘর’-সংক্রান্ত মারাত্মক সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি, যা মূলত এসব অপরাধের প্রতি তাঁর নীরব সমর্থনেরই সামিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রতিনিধিরা বলেন, পিলখানার নির্মম হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের যৌথ অভিযান এবং দেশের বিভিন্ন সময়ের আলোচিত গুম-খুনের ঘটনাগুলোর সময় রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে আন্তর্জাতিক আইনের সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নীতির ভিত্তিতে তাঁদের সামগ্রিক ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে একই দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে পলায়নরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া ও সহযোগিতার দায়ে সদ্য পদত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া এই অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার পালাবদলের সময় সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে তিনি সহায়তা প্রদান করেছিলেন। ফলে এই বিষয়েও আলাদাভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:২১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী ও নির্দেশদাতা হিসেবে দায়বদ্ধতার অভিযোগে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে গভীর তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আজ রোববার (২৬ জুলাই) ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’র পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এই লিখিত অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান সাংবাদিকদের জানান যে, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও আবদুল হামিদের শাসনকালের ভূমিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার জন্য এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দায়ের করা অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চরম সংকটময় সময়ে রাষ্ট্রের সশস্ত্র তিন বাহিনীর সাংবিধানিক সর্বাধিনায়ক পদে আসীন থাকা সত্ত্বেও মো. সাহাবুদ্দিন সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা গুম, নির্বিচারে হত্যা এবং বহুল আলোচিত গোপন বন্দিশালা বা কথিত ‘আয়নাঘর’-সংক্রান্ত মারাত্মক সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি, যা মূলত এসব অপরাধের প্রতি তাঁর নীরব সমর্থনেরই সামিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রতিনিধিরা বলেন, পিলখানার নির্মম হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের যৌথ অভিযান এবং দেশের বিভিন্ন সময়ের আলোচিত গুম-খুনের ঘটনাগুলোর সময় রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে আন্তর্জাতিক আইনের সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নীতির ভিত্তিতে তাঁদের সামগ্রিক ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে একই দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে পলায়নরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া ও সহযোগিতার দায়ে সদ্য পদত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া এই অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার পালাবদলের সময় সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে তিনি সহায়তা প্রদান করেছিলেন। ফলে এই বিষয়েও আলাদাভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।