০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

মতলব উত্তরে এক যুগেও সংস্কার হয়নি সড়ক, খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ

alokitopatrika
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫২০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক
এক যুগ ধরে সংস্কার না হওয়ায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দাশের বাজার-রসুলপুর সড়কটি এখন খানাখন্দে ভরা। ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ফতেপুর পূর্ব, সুলতানাবাদ ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথ এই সড়কটি। ঐতিহ্যবাহী ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সি আজিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়, মতলব সরকারি হাসপাতাল, মতলব সরকারি কলেজ ও রয়মনেননেছা মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও রোগী-স্বজন প্রতিদিন এই পথেই যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কটি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে মারাত্মক জরাজীর্ণ ও চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন

দাসের বাজারের ব্যবসায়ী সেলিম সরকার বলেন, ‘সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় ধ্বংসের মুখে। বর্ষাকালে খানাখন্দে যানবাহন আটকে যায়, মালপত্র আনা-নেওয়া করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ক্রেতারাও বাধ্য হয়ে অন্য বাজারে চলে যান। দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার না করা হলে আমাদের চরম লোকসান গুনতে হবে।’

ইসলামাবাদ গ্রামের মতলব ডিগ্রী কলেজের ছাত্র মো. মাসুদ বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের এই ভাঙা সড়ক দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বৃষ্টি হলে কোনো যানবাহন যেতে চায় না, আর গেলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। এতে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।’

ইজিবাইকচালক মাহাবুল বিশ্বাস একই সুরে বলেন, ‘প্রতিদিন ইজিবাইকের কোনো না কোনো পার্টস ভাঙছে। মেরামতের খরচ চালাতে গিয়ে আমাদের লাভ থাকছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে হয়।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো মাসুম বলেন, ‘২০১০ সালে রাস্তাটি পাকা করার পর থেকে আর কখনোই কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। অথচ আমাদের এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক।’

উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার জানান, রাস্তাঘাট সংস্কার বা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। মূলত উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নয়ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সড়কটি যদি জিপিপি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত থাকে, তবে গুরুত্বের সাথে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। জরাজীর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মতলব উত্তরে এক যুগেও সংস্কার হয়নি সড়ক, খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৮:১৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
এক যুগ ধরে সংস্কার না হওয়ায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দাশের বাজার-রসুলপুর সড়কটি এখন খানাখন্দে ভরা। ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ফতেপুর পূর্ব, সুলতানাবাদ ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথ এই সড়কটি। ঐতিহ্যবাহী ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সি আজিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়, মতলব সরকারি হাসপাতাল, মতলব সরকারি কলেজ ও রয়মনেননেছা মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও রোগী-স্বজন প্রতিদিন এই পথেই যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কটি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে মারাত্মক জরাজীর্ণ ও চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন

দাসের বাজারের ব্যবসায়ী সেলিম সরকার বলেন, ‘সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় ধ্বংসের মুখে। বর্ষাকালে খানাখন্দে যানবাহন আটকে যায়, মালপত্র আনা-নেওয়া করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ক্রেতারাও বাধ্য হয়ে অন্য বাজারে চলে যান। দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার না করা হলে আমাদের চরম লোকসান গুনতে হবে।’

ইসলামাবাদ গ্রামের মতলব ডিগ্রী কলেজের ছাত্র মো. মাসুদ বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের এই ভাঙা সড়ক দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বৃষ্টি হলে কোনো যানবাহন যেতে চায় না, আর গেলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। এতে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।’

ইজিবাইকচালক মাহাবুল বিশ্বাস একই সুরে বলেন, ‘প্রতিদিন ইজিবাইকের কোনো না কোনো পার্টস ভাঙছে। মেরামতের খরচ চালাতে গিয়ে আমাদের লাভ থাকছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে হয়।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো মাসুম বলেন, ‘২০১০ সালে রাস্তাটি পাকা করার পর থেকে আর কখনোই কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। অথচ আমাদের এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক।’

উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার জানান, রাস্তাঘাট সংস্কার বা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। মূলত উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নয়ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সড়কটি যদি জিপিপি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত থাকে, তবে গুরুত্বের সাথে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। জরাজীর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’