দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য জরুরি : সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী
- আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫২৭ Time View

প্রাণপ্রিয় দেশবাসী ও প্রবাসীগণ,
আসসালামু আলাইকুম।
সবার আগে দেশ-এই শব্দটি কি শুধু মুখের বুলি? নাকি সস্তা বক্তব্যের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা? আজ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়াই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
মজলুমের আর্তনাদ, জনগণের আবেগ-অনুভূতি, চোখের ভাষা—একমাত্র আকাঙ্ক্ষা শোষনহীন, বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক, নৈতিক-মানবিক-“দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ”।
আজ আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট অর্থের নয়, নৈতিকতার। সবচেয়ে বড় অভাব সম্পদের নয়, সততার। সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য নেতৃত্বের নয়, নেতৃত্বের ভিতরে নৈতিকতার সংকট।
ভয় করলে আপনি শেষ, সাহস করলে আপনিই বাংলাদেশ। দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, নিজেকে বদলান, সমাজ বদলাবে ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশের ইতিহাস আত্মত্যাগের ইতিহাস। বৃটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিবেদিত দেশপ্রেমিক শহীদদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে জাতীয় বেঈমান, মুনাফেকদের চক্রান্ত আজও চলমান!!
জাতির দুর্ভাগ্য—নির্লজ্জ, বেহায়া, সুবিধাবাদী, সুযোগসন্ধানী, বহুরূপী, চাটুকার, তাবেদার, আমলা দুর্বৃত্ত, ব্যবসায়িক দুর্ভৃত্ত, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত এবং সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত দাবিদার-বিদেশি দালান-সুশীল মুনাফেকদের সংখ্যা অনেক বেশি নয়।
নশ্বর পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী স্বার্থ ও ক্ষমতার মোহে এত অভিনয়, এত সহিংসতা, এত মিথ্যাচার, এত উচ্ছৃঙ্খলতা, এত প্রতারণা!!
জাতীয় বেঈমান, মুনাফেক, লুটেরা, দুর্বৃত্তদের রক্ষায় বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর আপস-মীমাংসা দেশের মজলুম জনগণ আর মেনে নেবে না।
আমরা কি সন্তানদের দেশপ্রেম, সততা, মানবিকতা শেখাচ্ছি, নাকি কেবল সফলতার শর্টকাট শেখাচ্ছি? আমরা কি দুর্নীতিকে ঘৃণা করি, নাকি সুযোগ পেলে নিজেরাও দুর্নীতি করি?
বৃটিশদের তৈরি আইন ও রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন করতে না পারলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।
দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি বিশ্বাস করে, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র-সকলস্তরে দেশপ্রেমের নৈতিক জাগরণ।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে মানবসৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য প্রতিপালনে বাবা আদম, মা হাওয়া (আঃ) থেকে সৃষ্ট সকল ধর্মের অনুশাসন—
“দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।”
“দেশকে গড়তে হলে, সবার আগে নিজেকে গড়ো।”
“নিজেকে শুদ্ধ করি, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি।”
“দুর্নীতি নিজে করব না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না।”
পরকালীন মুক্তির জন্য আমি, আমিত্ব, আমাদের বাদ দিয়ে—দেশ ও মানবজাতির স্বার্থে নিজ ঘর, পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিত সকল দুর্নীতিবাজকে চরম ঘৃণা করা এবং দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা প্রতিটি মানুষের ঈমানী দায়িত্ব।
মজলুম জনগণের একমাত্র আশা-আকাঙ্ক্ষা—দুর্নীতিমুক্ত বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রধান অন্তরায় হচ্ছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, বিভক্তি-বিভ্রান্তি, অপব্যাখ্যা-অপপ্রচার, পরনিন্দা, পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও দলীয় কোন্দল, জেদ-অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ।
বেঈমানি আমাদের ঈমানের নূরকে ম্লান করে দিয়েছে। স্বার্থপরতা মানবজাতির নিকৃষ্টতম অপরাধ। ব্যক্তি বদলালে পরিবার বদলায়, পরিবার বদলালে সমাজ বদলায়, সমাজ বদলালে রাষ্ট্রও পরিবর্তিত হয়।
লোভ, মোহ, স্বার্থ, আত্মপ্রীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্মগরিমা, আত্মগৌরব, আত্মঅহংকার প্রভৃতি রোগে শিক্ষিত নামধারী আমরা অধিকাংশ মানুষ আজ আক্রান্ত। সমস্ত শরীরে পচন ধরেছে, যার দুর্গন্ধ গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ছে।
সংস্কারবিরোধীগণ নিজ দল সংস্কারে চরমভাবে পর্যুদস্ত। বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হলো— প্রবাসী বাংলাদেশীগণ, ঢাকা মহানগর, বিভাগ, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও গ্রামে অবস্থানরত সকল রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দায়িত্বশীল, নিবেদিত দেশপ্রেমিকদের এগিয়ে আসা; এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।
বারবার জীবন দিয়ে স্বৈরশাসক পরিবর্তন করার চেয়ে পুরো শাসনব্যবস্থার সংস্কার করা অধিক শ্রেয়। এমনভাবে সংস্কার ও পরিবর্তন করতে হবে, যাতে স্বৈরশাসক তৈরি হতে না পারে।
মাত্র ১৩% জাতীয় বেঈমান, সুযোগসন্ধানী, দালাল, চাটুকার, লুটেরা, মাফিয়া-সিন্ডিকেট, অন্ধ দলদাস, চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ ও দুর্বৃত্তদের অবিচার-অনাচার থেকে দেশ বাঁচাতে ৮৭% মজলুম জনগণকে দুর্নীতিমুক্ত বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার দেশপ্রেমিকদের বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।
চিরদিনের জন্য স্বৈরশাসকমুক্ত—বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসযোগ্য, ন্যায়-ইনসাফ ও মুক্ত গণতন্ত্র চর্চার নৈতিক মানবিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিচারপতি মরহুম মোহাম্মদ আব্দুর রউফ প্রণীত জাতির মুক্তির সনদ ১১ দফা—
১. দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রভাবমুক্ত, সম্পূর্ণ স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন ও কার্যকর করা।
২. সরকারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার কার্যকর করা।
৩. রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন আইন ও বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সৎ সাহসী, সত্যবাদী ও দেশপ্রেমিকদের বিচার বিভাগে নিয়োগের প্রক্রিয়া কার্যকর করার বিধান করা।
৪. শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন ও কার্যকর করা।
৫. সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার কার্যকর করা।
৬. বৃটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।
৭. মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল নাগরিকের স্বনামে-বেনামে সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের ব্যবস্থা কার্যকর করা।
৮. সারা বিশ্বের নিকট সমাদৃত ও প্রশংসিত বিচারপতি মরহুম মোহাম্মদ আব্দুর রউফ প্রণীত ভোটার ক্লাবের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রশাসনমুক্ত স্বচ্ছ ভোটাধিকার প্রয়োগ পদ্ধতিসহ সরকারের প্রভাবমুক্ত, সম্পূর্ণ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও পুনর্গঠন কার্যকর করা।
৯. সরকারের প্রভাবমুক্ত, সম্পূর্ণ স্বাধীন পাবলিক সার্ভিস কমিশন সংস্কার ও পুনর্গঠন কার্যকর করা।
১০. রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতিমুক্ত করাসহ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে সংস্কার ও বিশ্বমানের কাঠামোয় গঠন কার্যকর করা।
১১. গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও পত্রিকাসমূহকে মাফিয়া-সিন্ডিকেটমুক্ত করে সৎ সাহসী, সত্যবাদী, দায়িত্বশীল ও নিবেদিত দেশপ্রেমিক গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মিথ্যা পরিহার করে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য দলদাসমুক্ত, সৎ সাহসী, সত্যবাদী ও সকল নিবেদিত দেশপ্রেমিক জনগণকে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সঙ্গে—প্রবাসে এবং দেশে—ঢাকা মহানগর, বিভাগ, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, গ্রামের সৎ সাহসী দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিকদের যুক্ত হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।
মিথ্যাচার, স্বার্থপরতা, উচ্ছৃঙ্খলতা, দলীয়করণ ও আত্মীয়করণমুক্ত ১০ হাজার পেশাদার ও দায়িত্বশীল দেশপ্রেমিক খুঁজে বের করতে পারলে—বাংলাদেশকে এশিয়ার জাপান, সিঙ্গাপুর বা দক্ষিণ কোরিয়া করতে না পারলেও চায়না, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
হে মহান স্রষ্টা, জাতীয় বেঈমান, লুটেরা, মুনাফেকদের চক্রান্ত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করুন। আমিন।
সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী
সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র
দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি
ইমেইল: acnccbd@gmail.com
























