তবু কেন বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে হবে আর্জেন্টিনাকে
- আপডেট সময় : ০৫:৪১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / ৫২০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সবে শেষ হয়েছে। তবে এরই মধ্যে আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে শুরু হচ্ছে জল্পনা-কল্পনা। আর্জেন্টিনা ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক হলেও টুর্নামেন্টের আগে তাদের বাছাইপর্ব খেলতে হবে।
২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক স্পেন, মরক্কো এবং পর্তুগাল।যেহেতু এটা শতবর্ষব্যাপী টুর্নামেন্ট, তিন আয়োজকের পাশাপাশি উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতেও হবে বিশ্বকাপের ম্যাচ। আয়োজক সূত্রে এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার আগামী বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয়েছে। আর্জেন্টিনার ভক্ত-সমর্থকেরা এটা ভেবে আশ্বস্ত হতে পারেন যে তাদের প্রিয় দলের বাছাইপর্ব খেলা লাগবে না। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা পুরোপুরি ভিন্ন।
ফিফা এখনো বাছাইপর্ব নির্ধারণ করেনি। কিন্তু কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো দোমিঙ্গেজ ঘোষণা করেছেন যে ৬৪ দল অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে আগামী বিশ্বকাপে। এখানে একো সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেহেতু তিনটি দল এরই মধ্যে যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং যেহেতু দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশন (কনমেবল) সাধারণত ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ছয়টি সরাসরি স্থান এবং একটি প্লে-অফ স্পট পেয়ে থাকে। এই অঞ্চলের প্রায় প্রত্যেক দেশই টুর্নামেন্টের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। তাহলে বাছাইপর্ব আয়োজন অনেকটাই অর্থহীন হয়ে পড়বে। সবকিছু বিবেচনা করে উয়েফার নেশনস লিগের মতো কনমেবল একটি টুর্নামেন্ট তৈরির কথা ভাবছে। ২০২৮ কোপা আমেরিকার পাশাপাশি বিশ্বকাপ চক্র চলা অবস্থায় জাতীয় দলগুলো তাতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে পারে।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারিয়ে প্যারাগুয়ে শেষ ষোলোতে খেলেছিল। চমকে দেওয়া প্যারাগুয়েও আয়োজক সূত্রে ২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এ ব্যাপারে প্যারাগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএফ) সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনার মতো আমরাও এরই মধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছি। বাছাইপর্বের চূড়ান্ত অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে যাওয়া বাকি সাড়ে তিনটি স্থান ছাড়াও উয়েফার সঙ্গে একটি টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটা এক ধরনের নেশনস লীগ হবে। তাতে আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি।’
লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে বাছাইপর্বে সবার ওপরে থেকে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান— গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ সহজে জেতার পর নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা স্নায়ুচাপের বাধা দারুণভাবে পেরোয়। কেপ ভার্দে, মিসর—দুই দলের বিপক্ষেই ৩-২ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। যার মধ্যে মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে লিওনেল স্কালোনির দল জেতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে।
সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে ৩-১ ও ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা উঠেছিল ফাইনালে। আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেরা জিতেছিল পিছিয়ে থেকে। লিওনেল মেসি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টে একের পর এক রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে গত পরশু ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে আর্জেন্টিনা। মেসিও তাঁর বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। আর্জেন্টিনার সঙ্গে স্কালোনির ৮ বছরের সম্পর্কও হয়তো শেষ হবে।
আর্জেন্টিনা বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচ কবে খেলবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে ধারণা পাওয়া গেছে। ৬ অক্টোবর মাঠে নামতে পারে আলবিসেলেস্তেরা। তবে বাছাইপর্বে তাদের প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত হয়নি।



























