খানজাহান আলীর দিঘিতে কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার,দাফন সম্পন্ন
- আপডেট সময় : ০৫:১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / ৫১৮ Time View
ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা পর ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার
বাগেরহাট সদর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (র.) মাজার-সংলগ্ন দিঘির ঘাট থেকে ফাতেমা আক্তার (৭) নামে এক শিশুকে কুমির টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ।
তিনি বলেন, সোমবার রাত প্রায় ৮টার দিকে শিশুটি কুমিরের হামলার শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়েছে বলে খবর পাই। খবর পেয়ে আমাদের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। রাতভর অনুসন্ধান চালানোর পর মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১ জুন) রাত ৮টার দিকে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী তার মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নামেন। এ সময় দিঘিতে থাকা কুমির হঠাৎ শিশুটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় ফাতেমার চিৎকারে মাজার এলাকায় থাকা লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা তৎক্ষণাৎ নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, মাজারের খাদেম ও স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে অভিযান চালান।
ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার (৮) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে মাজার মসজিদ এলাকায় জানাজা শেষে দিঘীরপাড় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. শরীফ খান, মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।






