০১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

টুঙ্গিপাড়ায় ভুয়া কাজীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রির অভিযোগ

dailydurbin
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / ৫৫৩ Time View

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি :গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে একাধিক বিয়ে পড়ানো ও অবৈধভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল খাঁ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি টাকার বিনিময়ে গোপনে বিয়ে সম্পন্ন ও রেজিস্ট্রির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এতে বর-কনে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার ঝুঁকিতে পড়ছেন এবং সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

 

অভিযুক্ত সাইফুল খাঁ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ২ নং বর্ণি ইউনিয়নের বাসুড়িয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলী খাঁর ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈধ নিবন্ধিত কাজী না হওয়া সত্ত্বেও সাইফুল খাঁ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিয়ে পড়িয়ে নিজস্বভাবে তৈরি করা কথিত রেজিস্ট্রেশন খাতা ও ভলিউম বইয়ে তথ্য সংরক্ষণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মোটা অঙ্কের দেনমোহর উল্লেখ করে সরকারি খাতে নির্ধারিত রাজস্ব জমা না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এ কারণে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সংশ্লিষ্ট দম্পতিরাও বৈধ বিয়ের নিবন্ধন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।

 

এলাকাবাসীর দাবি, কোথাও বিয়ের খবর পেলেই সাইফুল খাঁ সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে বিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করেন।

 

সম্প্রতি উপজেলার মালেক বাজার এলাকায় একটি বিয়ে পড়ানোর সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত কাজী হাসমত শেখের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে বর্ণি গ্রামের মো. ইব্রাহিম শেখের মেয়ে নাহিদা খানমের, ১১ জুন মোল্লারহাটের শরসপুর গ্রামের লিটন সর্দারের মেয়ে রুপার এবং একই দিনে গিমাডাঙ্গা মুন্সিরচর গ্রামের মো. আনারউদ্দিন শেখের মেয়ে ইজমা আক্তারের বিয়ে পড়ান সাইফুল খাঁ। এছাড়া গজালিয়া গ্রামের মো. শুকুর মোল্লার মেয়ে মুক্তা খানমের একটি বিয়েও তিনি সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যেখানে বিয়ের তারিখও উল্লেখ করা হয়নি।

 

সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত কাজী হাসমত শেখ বলেন, “আমি একাধিকবার তাকে এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেছি। কিন্তু সে কোনো নির্দেশনা মানছে না। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় আজ তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, তার ব্যবহৃত কথিত ভলিউম বই ও রেজিস্ট্রেশন খাতা উদ্ধার করে বিষয়টি তদন্ত করা হোক এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল খাঁ বলেন, “আমি কোনো সরকারি নিবন্ধিত কাজী নই। তবে পাশের কুশলী ইউনিয়নের নিবন্ধিত কাজী হাসমতের সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বিয়ে পড়িয়েছি।”

 

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টুঙ্গিপাড়ায় ভুয়া কাজীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি :গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে একাধিক বিয়ে পড়ানো ও অবৈধভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল খাঁ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি টাকার বিনিময়ে গোপনে বিয়ে সম্পন্ন ও রেজিস্ট্রির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এতে বর-কনে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার ঝুঁকিতে পড়ছেন এবং সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

 

অভিযুক্ত সাইফুল খাঁ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ২ নং বর্ণি ইউনিয়নের বাসুড়িয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলী খাঁর ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈধ নিবন্ধিত কাজী না হওয়া সত্ত্বেও সাইফুল খাঁ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিয়ে পড়িয়ে নিজস্বভাবে তৈরি করা কথিত রেজিস্ট্রেশন খাতা ও ভলিউম বইয়ে তথ্য সংরক্ষণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মোটা অঙ্কের দেনমোহর উল্লেখ করে সরকারি খাতে নির্ধারিত রাজস্ব জমা না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এ কারণে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সংশ্লিষ্ট দম্পতিরাও বৈধ বিয়ের নিবন্ধন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।

 

এলাকাবাসীর দাবি, কোথাও বিয়ের খবর পেলেই সাইফুল খাঁ সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে বিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করেন।

 

সম্প্রতি উপজেলার মালেক বাজার এলাকায় একটি বিয়ে পড়ানোর সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত কাজী হাসমত শেখের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে বর্ণি গ্রামের মো. ইব্রাহিম শেখের মেয়ে নাহিদা খানমের, ১১ জুন মোল্লারহাটের শরসপুর গ্রামের লিটন সর্দারের মেয়ে রুপার এবং একই দিনে গিমাডাঙ্গা মুন্সিরচর গ্রামের মো. আনারউদ্দিন শেখের মেয়ে ইজমা আক্তারের বিয়ে পড়ান সাইফুল খাঁ। এছাড়া গজালিয়া গ্রামের মো. শুকুর মোল্লার মেয়ে মুক্তা খানমের একটি বিয়েও তিনি সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যেখানে বিয়ের তারিখও উল্লেখ করা হয়নি।

 

সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত কাজী হাসমত শেখ বলেন, “আমি একাধিকবার তাকে এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেছি। কিন্তু সে কোনো নির্দেশনা মানছে না। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় আজ তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, তার ব্যবহৃত কথিত ভলিউম বই ও রেজিস্ট্রেশন খাতা উদ্ধার করে বিষয়টি তদন্ত করা হোক এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল খাঁ বলেন, “আমি কোনো সরকারি নিবন্ধিত কাজী নই। তবে পাশের কুশলী ইউনিয়নের নিবন্ধিত কাজী হাসমতের সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বিয়ে পড়িয়েছি।”

 

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।