ডেস্ক নিউজ : পিরিয়ডের নির্দিষ্ট তারিখ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেক নারীরই ত্বকে ব্রণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এটি কেবল কিশোরীদের নয়, বরং ৩০ বা ৪০ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রেও একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় দামি রূপচর্চা করেও এই সমস্যার সমাধান হয় না, যা অনেকের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেন এমন হয় এবং এর প্রতিকারই বা কী, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মুম্বইয়ের স্যার এইচ.এন. রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সোনালী কোহলি।
কেন বাড়ে ব্রণের দাপট?
চিকিৎসকের মতে, পিরিয়ডসের ঠিক আগে শরীরে ইস্ট্রোজেন (Oestrogen) হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে যায় এবং অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। এই অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ফলে ত্বকের নিচে থাকা সেবেসিয়াস গ্রন্থি বা তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থিগুলো উদ্দীপিত হয় এবং অতিরিক্ত ‘সিবাম’ তৈরি করতে শুরু করে। এই অতিরিক্ত তেল যখন ত্বকের মরা কোশ এবং ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে যায়, তখনই লোমকূপ বা পোরস বন্ধ হয়ে ব্রণ, হোয়াইটহেডস কিংবা যন্ত্রণাদায়ক সিস্টিক অ্যাকনে তৈরি হয়।
শুধুমাত্র হরমোন নয়, আমাদের প্রতিদিনের কিছু জীবনযাত্রার অভ্যাসও এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে:
ঘরোয়া উপায়ে প্রতিকার
ডা. কোহলি পরামর্শ দিচ্ছেন যে, পিরিয়ডসের আগে অনেক বেশি অ্যান্টি-অ্যাকনে প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে লাইফস্টাইলে ছোট কিছু বদল আনা জরুরি:
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
পিরিয়ডসের আগে সামান্য ব্রণ হওয়া স্বাভাবিক হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি বড় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। যদি ব্রণের সঙ্গে নিচের লক্ষণগুলো থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
এই উপসর্গগুলো থাকলে তা পিসিওএস, থাইরয়েডের সমস্যা বা শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির ইঙ্গিত হতে পারে। পরিশেষে, পিরিয়ডসের আগে ব্রণ হওয়া একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। নিজের শরীরের হরমোনের ধরন বুঝে সঠিক লাইফস্টাইল অনুসরণ করলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল