প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৭, ২০২৬, ১০:২৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২৭, ২০২৬, ৮:৪২ এ.এম
দলীয় প্রতীক ছাড়াই স্থানীয় নির্বাচন, প্রার্থিতায় আসতে পারে পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্টে প্রস্তুতি শেষ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি। দলীয় প্রতীক ছাড়াই হচ্ছে এবারের ভোট। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালায় একগুচ্ছ সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। এর একটি—বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই ভোটে প্রার্থী হতে পারবেন না।
সংসদে এই আইন পাস হলে চাকরিতে বহাল থেকে তারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক এবং লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিদেরও ভোটে অযোগ্য করতে চায় ইসি। তবে দেশে এই মুহূর্তে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী সাড়ে ৭ লাখের বেশি।
এ বিষয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজীজী বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের মধ্যে যে ধরনের গুণাবলি থাকে, শিক্ষকরা তুলনামূলকভাবে একটু ভিন্নধর্মী। এজন্য তারা সমাজে যে সেবাটা দিতে পারেন, সেটা আসলে একজন রাজনীতিবিদের পক্ষে সৎ থেকে ওইভাবে দেয়ার সুযোগ নেই। সেই জায়গা থেকে আমরা বলব, এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। আর সর্বোপরি, জাতীয়করণ করার আগে যদি আমাদের ওপর সরকারি সব নিয়মকানুন চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে সেটি বুমেরাং হতে পারে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না।’
সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় নির্বাচনের আইন সংশোধন করলে বিরোধ তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলী বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন—দুটিই আলাদা। একটি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সরকার গঠিত হয়, আর অন্যটি এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবা দেয়ার জন্য প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে। তাই এই দুই নির্বাচনের কাঠামো যেমন ভিন্ন, তেমনি উদ্দেশ্যও ভিন্ন। এখানকার যোগ্যতা-অযোগ্যতার ক্ষেত্রেও অনেক পার্থক্য রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দুইটিকে একই মাপকাঠিতে ফেলে দেয়াটা আমার কাছে ঠিক মনে হয় না।’
স্থানীয় সরকারের সব আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ঢাল হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করাটা আমি ঠিক যৌক্তিক মনে করি না। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কিছুটা ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল। কিন্তু পরে অধিকসংখ্যক র্যাব মোতায়েন করা হয় এবং নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। যখন আইনে দেখা যাবে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীও রয়েছে, তখন জনগণের পক্ষ থেকেই দাবি উঠবে যে আমরা সেনাবাহিনী চাই। তখন যদি নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনী মোতায়েন না করে, আর নির্বাচন সঠিকভাবে না হয়, তাহলে নির্বাচনের পর জনগণ প্রশ্ন তুলতে পারে।’
আইন সংশোধনের বিষয়ে শিগগিরই সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাবে নির্বাচন কমিশন।
সম্পাদক : মনিরুল ইসলাম মনির