
গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে পোশাকশিল্প বর্তমানে দ্রুত গতিতে তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা সিনথেটিক তন্তুর দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদী রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এই বর্ধিত বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতি ও পোশাকশিল্পের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে কৃত্রিম তন্তু উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার কার্যকর রোডম্যাপ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এমএমএফ কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা জরুরি। পাশাপাশি দেশে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও সিনথেটিক সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়গুলোকেও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ তুলাভিত্তিক হলেও বিশ্ববাজারের চাহিদা এখন সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে সরে যাচ্ছে, যা এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম তন্তু খাতের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিএফটিআই-এর বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার বিস্তার, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি এবং আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।