এই ১৭ জন কর্মকর্তা ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৩ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার রয়েছেন।
তাদের মধ্যে তিন নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে খালেদা জিয়াকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনাও এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ১৭ জন কর্মকর্তার নাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। চিঠিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, এসব কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন আজ (২২ জুলাই) বুধবার বা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জারি হতে পারে।
বাধ্যতামূলক অবসর শিরোনামের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো নথিতে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বেশির ভাগ কর্মকর্তাকেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থক বা সুবিধাভোগী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা পদোন্নতি ও সুবিধাজনক পোস্টিং পেতে নিজেদের পদবি ব্যবহার করেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার, আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এর আগে সরকার ৩৩ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে (১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ১ জন এসপি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে।
গত ৩ মে ১৭ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এবং ২২ এপ্রিল একই বিধানে ১১ জন ডিআইজি ও দুজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
সূত্র: ডেইলি স্টার
